পাঁচমুড়োর পঞ্চাননমঙ্গল-প্রীতম বসু(রিভিউ ১৪)

Dirk Pitt

New Member
Oct 11, 2013
53
665
31
Credits
1,760
আপনার বই এর রিভিউ আমাকে আবার বই পড়তে টেনে আনছে। থ্রিলার খুব খুব পছন্দের বিষয়, আর দেশী থ্রিলার তো অবশ্যই বেশি পছন্দের। দেশের মধ্যে আগে সমরেশ মজুমদারের থ্রিলার গুলো খুব পড়তাম, নাজিমউদ্দিনের বাংলা থ্রিলার গুলিও খুব ভালো লেগেছে। কিন্তু বেশ কিছুদিন আর খোঁজ রাখা হয়নি নতুন থ্রিলারের। জেমস রোলিন্সের সিগমা ফোর্স এবং অন্যান্য থ্রিলার অসাধারন লাগে। ড্যান ব্রাউন তো এককথায় শেষ না করে ওঠা যাবে না। কিন্তু প্রীতম বসুর বইয়ের রিভিউ পড়ে মনে হলো, আমাদের নিজস্ব থ্রিলার সাথে ইতিহাস, জমে ক্ষীর হয়ে যাবে। এভাবে নতুন নতুন বইয়ের খবর জানান আমাদের, খুব ধন্যবাদ। আর অ্যাডমিনকে অনুরোধ করব, এই ধরনের বইয়ের রিভিউ এ ৬০ ক্রেডিট না দিয়ে ২০০ বা ৩০০ ক্রেডিট দেওয়া হোক, আমার আবেদন এটা।
 

Antar Keys

New Member
Trusted Member
Dec 18, 2014
400
8,829
30
Dhaka
www.facebook.com
Credits
4,839
পিডিএফ পড়ে ফেললাম। কাহিনী তো এককথায় অসাধারন। প্রথমদিকে মনে হচ্ছিল লেখক অনাবশ্যক একেকটি বাক্য দীর্ঘ করেছেন ফলে পড়তে বিরক্তি আসছিল কিন্তু মুল কাহিনীতে প্রবেশের পর ওইগুলো আর চোখেই পড়েনি।

লেখকের পড়াশোনার মুল ছাপ আমার মতে পঞ্চাননকাব্য রচনাতে, ১৪০০ এর দিকের বাংলা ভাষাতে সম্পুর্ন একটি কাব্য লিখে ফেলা (প্রায় ৯০% বইতে দেওয়াই আছে), এছাড়া অন এক নুতন নুতন তথ্য জানলাম এই বই পড়ে। বই এর শেষে বোনাহ হিসেবে আছে সেই সময়ের বাংলা বর্নমালা, আর অনেক শব্দের অর্থ, সব মিলিয়ে এই বইটি কেবলমাত্র একটি থ্রিলার নয়, বরং আনন্দের সাথে বাংলার ইতিহাস জানার একটি থিসিস (যদিও সবকিছু সিরিয়াসলি নিলে আবার ভুল জানাও হতে পারে :p)।

মুসলমানদের বর্নীল ইতিহাস নবিয়েও এমন বই কেউ লিখলে ভালো লাগত, কিন্তু সমস্যা হল প্রিতম বসু যেভাবে গোঁড়ামি না করেই হিন্দুদের আদি গৌরবের কথা তুলে ধরেছেন, আজ পর্যন্ত কোন বাঙ্গালী মুসলিম লেখক তা করে দেখাতে পারেন নি, বরং মুসলিম গর্বের কথা লিখতে যেয়ে গোঁড়ামি বা অযথা আক্ষেপ বেশি লিখে ফেলেন তারা ফলে বই পড়ে আর মজা পাওয়া যায় না।

যাই হোক, একটি পলিটিকাল জোকস দিয়ে শেষ করি, বইটি গুজরাটিতে অনুবাদ করে মোদিজির কাছে পাঠালে লেখক নগদে পদ্মশ্রী পেয়ে যেতে পারেন, আর মোদিজিও বক্তৃতা লেখার নুতন মাল মশলা পেয়ে যাবেন। মজা করার উদ্দেশ্যেই বললাম কথাটা, আশা করি কেউ সিরিয়াসলি নেবেন না।
 

Riju#18

New Member
May 16, 2019
146
4,449
Credits
7,636
একমত ভাই। লেখকের পড়াশোনার ছাপ এখানে স্পষ্ট। আর থ্রিলার লিখতে বসে পড়াশোনা না করে খাজা থ্রিলার লেখার কোনও অর্থ হয়না।থ্রিলার তখনই পাঠককে আকর্ষণ করে যখন সেখানে বাস্তবানুগ কাহিনী থাকে।
এই বিষয়টা স্পর্শকাতর। আমার মুসলিম ভাইদের ভাবাবেগে আঘাত না দিয়েই বলতে চাই কথাটা আংশিক সত্য। ইসলাম ধর্মের প্রতি কৌতূহল থেকে আমি অনেক বই পড়েছি,কিন্তু সেখানে লেখক গোঁড়ামি অতিক্রম করে যেতে পারেননি। হিন্দু ধর্মেও এরকম কম নেই(বিশেষ করে সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় এর এখনকার সব লেখায় গোঁড়ামির ছাপ পাই)


এটা ভালো বলেছেন
তবে উনি আবার লেখকের লেখার পিছনে নিজের ক্রেডিট না চেয়ে বসেন!!
 

Newton Dhrubo

Translation Lover
Contributor
Trusted Member
Top Poster Of Month
Aug 29, 2016
753
12,322
22
Dhaka Cantonment
Credits
36,203
ইতিহাস নির্ভর থ্রিলার সবসময় বেশ জনপ্রিয়। জেমস রোলিন্স এর বিখ্যাত প্রায় বেশিরভাগ বই এর কাহিনী অতীত ইতিহাস এর সাথে বর্তমানের মিশেলে তৈরী। এছাড়া এই বইটির রিভিউ পরে মনে হচ্ছ বেশ ভালো একটি বই হবে। Riju#18কে অনেক ধন্যবাদ বইটি সম্পর্কে জানানোর জন্য।
 

nile555

New Member
Nov 11, 2014
283
2,752
Credits
16,762
বইটা নিয়ে পড়তে পারিনি অনেক ব্যস্ততার জন্য, অবশেষে এই ছুটিতে সময় পেলে একটানে পড়ে ফেললাম।

পড়ে যা মনে হয়েছে তা একান্ত আমার ব্যক্তিগত।

বইটি স্ক্যান করার জন্য অনেক ধন্যবাদ এবং শেয়ার করার জন্য আরো অনেক বেশি ধন্যবাদ @Riju#18 । খালি একটা ভুল আছে, ১৬৭ পৃষ্ঠার পর ১৬৪ পৃষ্ঠা আবার এসেছে আর ১৬৮ পৃষ্ঠা নেই।

উপন্যাসটি খারাপ না, সময় কাটানোর জন্য বেশ ভালোই। ছন্দে অংকের ব্যাপারটা চমৎকার লেগেছে এবং নিঃসন্দেহে লেখককে অনেক পড়াশুনো করতে হয়েছে পুঁথি ব্যাপারে।

চরিত্রগুলো বেশ মজার কিন্ত কেমন যেন খাপছাড়া। কালাচাঁদের পরিবর্তন দৃষ্টিকটু এবং চরিত্রের সাথে যায়নি। ছিঁচকে চোর থেকে রাতারাতি আরব শেখের সাথে বুদ্ধিতে টক্কর দেয়ার ব্যাপারটা অবাস্তব। সেইসাথে হরু পণ্ডিতের চরিত্রের পরিবর্তনটাও বেশ অবাস্তব।

লেখার মধ্যে শীর্ষেন্দু এবং দুলাল ভৌমিকের ধাঁচটা বেশ ভালো ভাবেই চোখে পড়ে।

কিছু জিনিস একেবারেই ভালো লাগেনি।

লেখক বল্লাল/পাঁচমুড়ো গ্রাম কে স্বর্গ বানিয়ে দিয়েছেন একই সাথে লেখা পড়ে মনে হয় তৎকালীন বাংলায় কোন জাতপাতের ব্যাপার ছিল না একদম স্বর্গ রাজ্য!! পৃষ্ঠা ১১৩-১১৬ পড়লে মনে হবে স্বর্গ বোধহয় এমনই ছিল! এই বর্ণনার মধ্যে বাস্তব কতটুকু আর কতটুকু হিন্দু রামরাজত্বের কল্পনা তা যারা কিছুটা বাংলার ইতিহাস পড়েছেন তারাই বুঝতে পারবেন। তুর্কী, আফগানদের আক্রমনে বৌদ্ধরা গৃহহারা আর তাদের জন্য হিন্দু জমিদার আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে!! হাসতে হাসতে পেটে ব্যাথা হয়ে গেলো!! সেন বংশের রাজারা বৌদ্ধদের বাংলা থেকে বিতাড়ন করার জন্য কি করেছে তা বেমালুম উল্টে দিলেন। সেনরাজারা ছিলেন উঁচু গোত্রের হিন্দু ব্রাহ্মণ। এই ব্রাহ্মণ রাজারা নানাভাবে শোষণ এবং অত্যাচার করতে থাকেন বাংলার সাধারণ হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের মানুষদের। বৌদ্ধপণ্ডিত এবং বিহারগুলোর শিক্ষকদের অধিকাংশই সেন শাসকদের অত্যাচারের ভয়ে বইপত্র নিয়ে বাংলা ছেড়ে নেপাল, তিব্বত ও চীন দেশে চলে যান। বাংলায় বৌদ্ধ ধর্মের সমাপন হয় সেন রাজাদের অত্যাচারে। (এক কালে বাংলায় কেন বৌদ্ধ ধর্মের প্রসার হলো না সেটা নিয়ে কিছু ঘাটাঘাটি করেছিলাম)

মুসলিমরা জোর করে ধর্মান্তরিত করাচ্ছে, ব্রাক্ষণদের জোর করে গরুর মাংশ খাওয়াচ্ছে জাত মারার জন্য!! অথচ কুল ব্রাক্ষণদের অত্যাচার থেকে বাঁচতে যে হাজার হাজার মানুষ নিজেই হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে সেই কথাই নেই। শেষমেষ জোশের ঠেলায় বলেই ফেলা হয়েছে মুসলমানদের অত্যাচারের কথা ১৩৪ পৃষ্ঠায় ।

আর আরব, মোঘল, তুর্কী, পাঠান সাক্যুলে মুসলিমদের প্রতি সূক্ষ বিদ্বেষটা স্থুল হয়ে ফুটে উঠেছে। অতীতের খলনায়ক সুলতান জালালুদ্দিন আর বর্তমানের খলনায়ক আরব শেখ!! মুসলিমদের বার বার বিদেশী শত্রু হিসাবে দেখানো হয়েছে। আর বইয়ের ২টা মুসলিম চরিত্র একটা পাগলা ক্ষ্যাপা আরব শেখ যে নিজের বাপ ও ভাই কে খুন করে আর আরেকটা একজন মাতাল রাজমিস্ত্রি যে কিনা রাজনীতিতে ঢুকতে চায়।

এর উপর আরো অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে যে দুনিয়ার সকল গাণিতিক সূত্র বাংলার হিন্দু পন্ডিতদের আবিস্কার, সেই জিনিস নিয়ে আরবরা গবেষণা করে ইউরোপে নিজেদের নামে চালিয়ে দেবার জন্য ১৪শতকে সুলতানরা বাংলার পণ্ডিতদের পুঁথি পুড়িয়ে দিত!! গল্পের পাঁঠাকে প্লেন চালাতে দিলে তো এমনই হবে। তার উপর টাইমলাইন নিয়ে প্যাঁচ তো অনেক।

সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতে এটি একটি প্রপাগান্ডা উপন্যাস হিসাবে সফল, তবে এডভেঞ্চার বা থ্রিলার হিসাবে মোটামুটি। লেখক হিসাবে প্রীতম বসু ভালো সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই কিন্ত তার লেখনীর উদ্দেশ্য কি সেই ব্যপারে সন্দেশের অবকাশ আছে। কারণ গল্প উপন্যাসে লেখক কল্পনার আশ্রয় নিতেই পারেন, কিন্ত ইতিহাসকে বদলে দিয়ে যেভাবে সুক্ষ ভাবে ধর্মকে ব্যবহার করা হয়েছে তা উদ্দেশ্যমূলক বলে আমার কাছে মনে হয়েছে।

বর্তমান ভূ-রাজনৈইতিক পরিস্থিতিতে এই লেখা ফরমায়শি হলে আমি অবাক হবো না।
 

Maruf1815

New Member
Donor
Jun 9, 2019
60
2,257
Credits
4,171
বই এর রিভিউ এবং পাঠকদের মতামত আমাকে মন্তব্যের ঘরে নিয়ে এলো।
বয়স যতোই বাড়তে থাকুক, আজও থ্রিলার, অ্যাডভেঞ্চার, সাসপেন্স রক্তে অ্যাড্রেনালিনের মাত্রা বাড়িয়ে হার্টরেট বাড়ায়। আর সাথে যদি নতুন কিছু জানার থাকে, তবে তো কথাই নাই।
বইটি পাবার ও পড়ার বেশ আকাঙ্খা অনুভব করছি। রিভিউ লেখককে ধন্যবাদ।
 

Rashed Islam

New Member
Sep 16, 2013
34
196
Credits
259
জানিনা বইটি পাবো কী না... কারণ আমি সবার পড়ে কমেন্ট করলাম!!! প্রায়ই দেখি বইএর পিডিএফ থাকেনা যেটা আমার পড়তে ইচ্ছে করে। বইটির পিডিএফ কী আছে? থাকলে আমাকে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করছি। ধন্যবাদ।
 
  • Like
Reactions: shariar dipak

sanjidajoly

New Member
Feb 7, 2019
188
3,201
Credits
2,838
চমৎকার একটি রিভিউ। যেকোন বই পড়ার আগে রিভিউ একটা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। একটা ভালো রিভিউ পাঠক তৈরিতে সহায়ক।
 
  • Like
Reactions: shariar dipak

Suny13

Magazine Lover
Staff member
Moderator
Uploader
Jun 8, 2015
320
6,186
28
Dhaka
Credits
11,185
রিভিউটা পড়ে খুবই ভাল লাগল। বেশ চমৎকার লিখেছেন। বইটা পড়ার জন্য খুব আকর্ষন বোধ করছি। অনেক ধন্যবাদ এই রকম চমৎকার রিভিউ উপহার দেওয়ার জন্য।
 
  • Like
Reactions: shariar dipak

rupsapal

New Member
Jan 20, 2019
3
22
Credits
5,384
খুব সুন্দর রিভিউ লিখেছেন আপনি । রিভিউ পড়ার পর বইটা পড়তে ইচ্ছে করছে। কিন্তু পিডিএফ লিংক পাচ্ছি না। দয়া করে লিংক টা দেবেন। অনেক ধন্যবাদ।
 
  • Like
Reactions: shariar dipak